উত্তরঃ অপরাধ হলো, প্রচলিত আইন পরিপন্থী এক ধরনের মানব আচরণ যা জীবন, সম্পত্তি এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকারক। সাধারণভাবে একটি আচরণ তখনই অপরাধ হবে, যখন- ক) আচরণটির ফলশ্রতিতে বাহ্যিক ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাবে। খ) আচরণটি প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ হতে হবে। গ) আচরণটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হতে হবে। ঘ) আচরণটিতে অপরাধী মন বা মানসিকতার অস্তিত্ব থাকতে হবে। ঙ) আচরণটির জন্য সুস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকতে হবে।
পেনাল কোড ৪০ ধারা, সিআরপিসি ৪(১)(ণ) ধারা
অপরাধের উপাদানঃ অপরাধের উপাদান ২ টি ।যথা-
ক) ম্যান্সরিয়া, খ) অ্যাকটাসরিয়া নিম্নে বর্নণা করা হইল-
ক) ম্যান্সরিয়াঃ- ম্যান্সরিয়া হলো “দোষী মন”। অপরাধ করার পূর্ব পরিকল্পিত মানসিক ইচ্ছাই হলো ম্যান্সরিয়া। অন্যভাবে বলা যায় মানুষ হঠাৎ করেই কোন অপরাধ করে না। অপরাধীর অপরাধ আচরণ আগে তার অন্তরে বা মস্তিষ্কে ধারণ করে। যে সব মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তি অপরাধ কার্যের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে সে গুলো হলো- ১. ইচ্ছা ২. বেপরোয়া ভাব ৩. অবহেলা ৪. জ্ঞান
খ)অ্যাকটাসরিয়াঃ অ্যাকটাসরিয়া হলো অপরাধমূলক কাজ। অপরাধ আচরণের উপাদানগুলোর মধ্যে মানসিক উপাদান ব্যাতিত অন্যান্য অপরাধমূলক উপাদানকে অ্যাকটাসরিয়া বলা যেতে পারে, অ্যাকটাসরিয়া শুধুমাত্র কোন কার্য নয়, কার্যের ধরণ, প্রকৃতি ও অবস্থা।
উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায় “ক” একজন ব্যক্তি একটি বিপজ্জনক প্রাণীকে প্রতিহত করার জন্য যদি গুলি করে এবং সেই গুলি যদি অপর একজন ব্যক্তি “খ” এর ক্ষতিসাধন করে তাহলে “ক” অপরাধী হবে না। কারণ “খ” এর কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা “ক” এর ছিল না। অপরাধের বৈশিষ্ট্যঃ অপরাধ হতে হলে কতিপয় বৈশিষ্ট্য পূরণ করা প্রয়োজন।
যেমনঃ ১) অপরাধ হতে হলে প্রয়োজন একটি কাজ বা কর্তব্যের অবহেলা ২) উক্ত কাজ বা কর্তব্যে অবহেলা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ থাকতে হবে, ৩) অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায় থাকতে হবে, ৪) কাজটি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হতে হবে।
0 মন্তব্যসমূহ