কমিউনিটি পুলিশিং হলো পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একটি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য সমাজভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জন।

মূল উদ্দেশ্যঃ

অপরাধের উৎসে প্রতিরোধ

• জনগণের মধ্যে অপরাধভীতি হ্রাস

• পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন

• জীবনের মান উন্নয়ন

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ইতিহাস (আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশে)ঃ

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ১৯৭০-এর দশক প্রথম পর্যায়ে প্রচলন শুরু হয়

বাংলাদেশ ১৯৯২ (ময়মনসিংহ) পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

১৯৯৪ (ঢাকা-কাফরুল) মহানগর পর্যায়ে চালু হয়

২০০০ সাল দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হয়।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

১. সামাজিক অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধ

২. জনগণের অংশগ্রহণে অপরাধ রোধে উদ্দীপনা সৃষ্টি

৩. তথ্য সংগ্রহ ও পুলিশকে সরবরাহ

৪. আইন প্রয়োগে সক্রিয় অংশগ্রহণ

৫. দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণির নিরাপত্তা নিশ্চিত

৬. নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা বজায় রাখা

৭. মানবাধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা

বাংলাদেশে বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাঃ

প্রতিবন্ধকতা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাঃ

১. আস্থার অভাব জনগণ পুলিশের ওপর নির্ভরশীল নয়

২. নেতিবাচক মনোভাব পুলিশের আন্তরিকতার ঘাটতি

৩. কাঠামোগত অনুপস্থিতি পুলিশের কার্যক্রমে স্থায়ীভাবে এ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তি নেই

৪. রাজনৈতিক কোন্দল দলের ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্ব

৫. ছদ্মবেশী অপরাধী কমিউনিটি পুলিশের ভেতরেই অপরাধী মিশে যেতে পারে

৬. তথ্যঘাটতি ও অতি প্রত্যাশা জনগণ পুলিশের সীমাবদ্ধতা জানে না, আবার চাহিদাও বেশি

৭. আর্থিক সংকট প্রয়োজনীয় অনুদান বা উৎসাহের অভাব।

কমিউনিটি পুলিশিং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি কার্যকর উপায় হলেও, এটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দরকারঃ

• জনগণের সচেতনতা ও আস্থা

• পুলিশের ইতিবাচক মনোভাব ও প্রশিক্ষণ • স্থায়ী কাঠামো এবং অর্থায়ন