সাক্ষ্য কাকে বলে?
সাক্ষ্য বলতে বোঝায় আদালতে যে তথ্য, দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে কোনো ঘটনা বা বিষয় সত্য প্রমাণ করা যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, আদালতে যেসব প্রমাণ দেওয়া হয়, যেগুলো দিয়ে বিচারক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সেগুলোকে সাক্ষ্য বলা হয়।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারা
সাক্ষ্য ২ প্রকার যথাঃ-
১. মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence)ঃ
আদালতে সাক্ষীর মুখে দেওয়া বিবৃতি বা জবানবন্দি।
উদ্দেশ্য: আদালতকে বিচার্য বিষয় প্রমাণের জন্য তথ্য দেওয়া।
উদাহরণ: প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি আদালতে বলে, “আমি দেখেছি অভিযুক্ত ব্যক্তি রাত ৯টায় দোকানে ঢুকেছে।”
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা
২. দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary Evidence)ঃ
আদালতে দলিল বা লিখিত বস্তু উপস্থাপন করে পরিদর্শন করানো।
উদাহরণ: চুক্তিপত্র, রশিদ, চেক ইত্যাদি।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা
দালিলিক সাক্ষ্য দুই ধরনের:
প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)ঃ
মূল দলিল আদালতে সরাসরি হাজির করা।
উদাহরণ: আসল চুক্তিপত্র বা আসল রশিদ।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা
মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence)ঃ
মূল দলিল হারানো বা অনুপলব্ধ হলে তার অনুলিপি, ফটোকপি বা অন্যান্য মাধ্যমিক দলিল আদালতে উপস্থাপন।
উদাহরণ: মূল চুক্তিপত্র না থাকলে তার ফটোকপি আদালতে দেখানো।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৩
সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তিঃ
১. বোবা সাক্ষ্য ঃ
যারা মুখে কথা বলতে পারে না তারাই বোবা যদি কোন বোবা ব্যক্তি আদালতের প্রশ্ন বোঝে এবং ইশারা, আকার-ইঙ্গিত বা লিখিত জবাব দিতে সক্ষম হয় তাকে বোবা সাক্ষ্য বলে। বোবা সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য।
উদাহরণ: বোবা ব্যক্তি দেখেছে চুরির ঘটনা, আদালতের প্রশ্ন বুঝে ইঙ্গিত বা লিখিতভাবে উত্তর দিতে পারলে সেই সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা
২. অতি বৃদ্ধ বা অল্পবয়সী বালকঃ
যদি তারা আদালতের প্রশ্ন বোঝে এবং যথাযথভাবে জবাব দিতে পারে, তাদের সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য।
উদাহরণ: ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বা ৭ বছরের শিশু আদালতের প্রশ্ন বুঝে ঘটনার বর্ণনা দিতে পারলে আদালত তা গ্রহণ করবে।
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা
0 মন্তব্যসমূহ