গেফতারকৃত আসামীর মৌলিক অধিকারসমূহঃ
১. গ্রেফতারের কারণ জানার অধিকারঃ
সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেফতার করার সাথে সাথে আসামীকে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে।
তাকে অকারণে আটক রাখা যাবে না।
২. আইনজীবীর সাহায্য নেওয়ার অধিকারঃ
সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো আইনজীবীর সাহায্য নিতে পারবেন।
৩. ২৪ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার অধিকারঃ
সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৩(২) ও ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬১ অনুসারে, গ্রেফতারকৃত আসামীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে (যাত্রার সময় বাদ দিয়ে) নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
৪. টর্চার বা অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষাঃ
সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) অনুযায়ী, কাউকে নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক বা হেয়প্রতিপন্নমূলক শাস্তি বা আচরণের শিকার করা যাবে না।
৫. বিনা বিচারে শাস্তি না পাওয়ার অধিকারঃ
সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৫(১) অনুসারে, কাউকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঠিক বিচার না করে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
৬. স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার অধিকারঃ
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, আসামী স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিলে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে জোরপূর্বক বা নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তি বৈধ নয় (Evidence Act, 1872 এর ধারা ২৪)।
৭. চিকিৎসার অধিকারঃ
আটক অবস্থায় অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
৮. বিনা জামিনে আটক না রাখার অধিকারঃ
জামিনযোগ্য অপরাধে আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
৯. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষাঃ
সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী, আইনানুগ পদ্ধতি ছাড়া কারও জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।
১০. নিজ ভাষায় বা বোঝার মতো ভাষায় অভিযোগ জানার অধিকারঃ
আসামীকে তার বোঝার মতো ভাষায় অভিযোগ জানাতে হবে (ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৩৪২)।
পরিশেষে বলা যায় বলা যায় যে,
গ্রেফতারকৃত আসামীও একজন নাগরিক, তাই তার মৌলিক অধিকার সংবিধান ও আইন দ্বারা সুরক্ষিত। ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সাহায্য, অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজিরকরণ—এসবই আসামীর মৌলিক অধিকার।
0 মন্তব্যসমূহ