ভূমিকা
বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষ্য প্রমাণ দুই প্রকার –
- মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence)
- বস্তুগত সাক্ষ্য (Documentary/Physical Evidence)
এদের মধ্যে আদালত প্রায়শই বস্তুগত সাক্ষ্যকে মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
মৌখিক সাক্ষ্যের সংজ্ঞাঃ
মৌখিক সাক্ষ্য হলো— কোনো ঘটনা বা বিষয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি বা সাক্ষীর জবানবন্দি। অর্থাৎ, যা একজন ব্যক্তি নিজ চোখে দেখেছে, কানে শুনেছে, অথবা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করেছে, তাই মৌখিক সাক্ষ্য।
সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ও ৬০ ধারা
বস্তুগত সাক্ষ্যের সংজ্ঞাঃ
বস্তুগত সাক্ষ্য হলো— দলিল, নথি, বস্তু বা অন্যান্য ভৌত প্রমাণ, যা আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয় এবং যার দ্বারা ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়। যেমন: চুক্তিপত্র, দলিল, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ফটো, ভিডিও, অস্ত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট ইত্যাদি।
বস্তুগত সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন তাহা আলোচনা করা হলোঃ
-
বিশ্বাসযোগ্যতাঃ
- মৌখিক সাক্ষী মানুষ হওয়ায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলতে পারে অথবা ভুলভাবে ঘটনা মনে করতে পারে।
- কিন্তু বস্তুগত সাক্ষ্য (যেমন লিখিত দলিল, নথি বা বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট) নির্ভরযোগ্য ও স্থায়ী হয়।
-
ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমঃ
- সাক্ষী প্রায়ই সময়ের সাথে সাথে ভুলে যায় বা বিভ্রান্ত হয়।
- দলিল, রিপোর্ট বা ভৌত প্রমাণ সময়ের সাথে সাথে অপরিবর্তিত থাকে।
-
মিথ্যা দেওয়ার সুযোগ কমঃ
- মৌখিক সাক্ষী শপথ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা দিতে পারে।
- কিন্তু বস্তুগত সাক্ষ্য যেমন— নিবন্ধিত দলিল, ডাক্তারি রিপোর্ট, ফরেনসিক টেস্ট ইত্যাদি জাল করা কঠিন এবং আদালত সহজে তা যাচাই করতে পারে।
-
আইনগত স্বীকৃতিঃ
- সাক্ষ্য আইন অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হলেও দলিল বা বস্তুগত সাক্ষ্য ছাড়া তা প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। যেমন: দলিল সংক্রান্ত মামলা (সিভিল কেস) এ লিখিত প্রমাণ বাধ্যতামূলক।
-
বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতাঃ
- আধুনিক যুগে DNA টেস্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, সিসিটিভি ফুটেজ প্রভৃতি বস্তুগত সাক্ষ্য অপরাধ প্রমাণে নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।
- মৌখিক সাক্ষ্য এতোটা নির্ভুলতা দিতে পারে না।
উদাহরণঃ
১. কোনো হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে একজন সাক্ষী বলল সে অপরাধীকে দেখেছে। এটি মৌখিক সাক্ষ্য।
২. একই ঘটনার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত রক্তমাখা ছুরি, সিসিটিভি ফুটেজ ও DNA রিপোর্ট হলো বস্তুগত সাক্ষ্য। আদালত সাধারণত দ্বিতীয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মৌখিক সাক্ষ্য বিচার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা হতে পারে। পক্ষান্তরে বস্তুগত সাক্ষ্য নির্ভরযোগ্য, স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বস্তুগত সাক্ষ্যকে মৌখিক সাক্ষ্যের তুলনায় অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সিআরপিসি ৫১০ ধারা, সাক্ষ্য আইনের ৯, ৪৫, ৭৪ ধারা,পিআরবি নিয়ম ৫২২।
0 মন্তব্যসমূহ