রাসায়নিক ফরেনসিক কি?
রাসায়নিক ফরেনসিক (Forensic Chemistry) হলো ফরেনসিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে রসায়ন বিজ্ঞানের জ্ঞান, তত্ত্ব ও পরীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরাধ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়। অর্থাৎ কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ঘটনাস্থল বা ভিকটিম থেকে সংগৃহীত প্রমাণ যেমন – রক্ত, প্রস্রাব, বিষ, মাদকদ্রব্য, আগুন বা বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ, কালি, রং ইত্যাদি রাসায়নিকভাবে পরীক্ষা করে অপরাধের সত্যতা ও অপরাধীর সম্পৃক্ততা নির্ণয় করাই হলো রাসায়নিক ফরেনসিকের কাজ।
## রাসায়নিক ফরেনসিকের উদ্দেশ্যঃ
- অপরাধে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করা।
- মাদক, বিষ বা অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করেছে কি না তা পরীক্ষা করা।
- অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ বা বিষক্রিয়ার মতো ঘটনার কারণ নির্ণয় করা।
- আদালতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা, যাতে বিচারক সঠিক রায় দিতে পারেন।
## রাসায়নিক ফরেনসিকের কাজ কি?
-
মাদক সনাক্তকরণঃ
- ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, কোকেন ইত্যাদি চিহ্নিতকরণ।
- সন্দেহভাজন ব্যক্তির রক্ত বা প্রস্রাবে ড্রাগ পরীক্ষণ।
-
বিষ বিশ্লেষণঃ
- খাদ্য, পানি বা ওষুধে বিষ মেশানো হয়েছে কি না তা নির্ণয়।
- আত্মহত্যা বা হত্যার ক্ষেত্রে ভিকটিমের শরীরে বিষের অস্তিত্ব খুঁজে বের করা।
-
অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরক তদন্তঃ
- আগুনে ব্যবহৃত দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ শনাক্তকরণ।
- বিস্ফোরকের রাসায়নিক উপাদান নির্ধারণ।
-
ডকুমেন্ট ও কালি পরীক্ষাঃ
- জাল স্বাক্ষর, ভুয়া নথি, টাকার নোট বা অন্য নকল কাগজপত্রে ব্যবহৃত কালি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করা।
-
শরীরবৃত্তীয় তরল পরীক্ষাঃ
- রক্ত, প্রস্রাব, লালা, ঘাম ইত্যাদিতে অ্যালকোহল বা ড্রাগ আছে কি না তা বের করা।
## বাংলাদেশে রাসায়নিক ফরেনসিকের ব্যবহারঃ
- ক্রাইম ল্যাব ও CID এ মাদক, বিষ ও বিস্ফোরক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
- বিশেষ আদালতে ফরেনসিক রিপোর্টকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- অপরাধ তদন্তে পুলিশ ও চিকিৎসকের সহায়ক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। রসায়নিকপরীক্ষার রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে ৪৫ ধারা মোতাবেক প্রাসঙ্গিক।
0 মন্তব্যসমূহ