ডিজিটাল সাক্ষ্য কীঃ

ডিজিটাল সাক্ষ্য হলো যে কোনো তথ্য বা ডেটা যা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, সিসিটিভি, ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, পেন ড্রাইভ, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে এবং আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হয়।

উদাহরণ:

  • সিসিটিভি ফুটেজ
  • কল রেকর্ড
  • ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট
  • ফেসবুক বা অনলাইন পোস্ট
  • ব্যাংকের অনলাইন লেনদেনের রেকর্ড
  • কম্পিউটার/মোবাইলের ফাইল, ছবি, ভিডিও

 পুলিশের করণীয় (ডিজিটাল সাক্ষ্য সংগ্রহে)

ডিজিটাল প্রমাণের মূল্য অনেক সময় নির্ভর করে এটি কতটা বিশ্বস্তভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হলো তার উপর। তাই পুলিশের কাজগুলো হলো:

  1. সাক্ষ্য শনাক্তকরণ (Identification):
    কোন ডিভাইসে বা কোথায় প্রমাণ থাকতে পারে তা চিহ্নিত করা—যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, সিসিটিভি ডিভিআর, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি।

  2. সুরক্ষা (Preservation):

    • ডিভাইস/ডেটা নষ্ট না হয় সেজন্য সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষিত করতে হবে।
    • কোনোভাবেই আসল ডেটা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যাবে না।
  3. সংগ্রহ (Collection):

    • বৈজ্ঞানিক ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে ডিভাইস বা ডেটা জব্দ করা।
    • ফরেনসিক সফটওয়্যার/টুল ব্যবহার করে ডেটার কপি (Forensic Image) তৈরি করা।
    • জব্দকৃত ডিভাইসের “চেইন অব কাস্টডি” বজায় রাখা (কে কখন নিয়েছে/ফেরত দিয়েছে তার নথিভুক্ত রেকর্ড)।
  4. বিশ্লেষণ (Examination & Analysis):

    • ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ডেটা পরীক্ষা করবে, যেমন—মুছে ফেলা ফাইল উদ্ধার, ই-মেইলের উৎস নির্ধারণ, আইপি ঠিকানা ট্রেস করা।
  5. আদালতে উপস্থাপন (Presentation):

    • সংগ্রহ করা ডিজিটাল সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
    • প্রমাণের সত্যতা ও অখণ্ডতা (Integrity) নিশ্চিত করে রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

পরিশেষে  বলা যায় যে, ডিজিটাল সাক্ষ্য হলো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য, আর পুলিশের কাজ হলো সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত, সংরক্ষণ, সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও আদালতে উপস্থাপন করা।সাক্ষ্য আইনের  ৪৫ ধারা, সিআরপিসির ৫১০ ধারা, পিআরবি নিয়ম  ৫২২